গ্রয়তা

বিমল মিত্র

ছআস্িভ্ডি গষি ক্চাম্পাজক্তঃ *+ স্যামাচকণ দেসবীট দ্ী কলিকাতা-৭০০ ০৭৩

খথস মুদ্রণ আবাঢ়ে ১৩৬

এধকাশক 2

ক্রীহনিপদ বিশ্বাল 'আফিত্য প্রক্কাশালর ২» সটাযাচরশ। ছে স্রীট স্কলিকাতা-৭০ » ৭৩

আুজ্াকন 2 এ্নিতাই চশ্র তুক্ত

দি জস্রগুরু এপ্স

১৬/৬এ, অবিনাশ দোষ তেন

কলিকাতণ1-

প্রিয়তম৷

গঙ্গাচরণ বাবুর গঙ্গা! লাভ

গঙ্গাচর্ণ বাবুকে পাড়ায় সবাই চেনে তার সামনে সবাই তাকে বলত গঙ্গাচরণ বাবু, আর পেছনে বলত গঙ্গার দিকে পা। কারণ, যদি কেউ জিজ্দেস করত তাকে, “কেমন আছেন ?” মুখ বেঁকিয়ে ঠোট কুঁচকে জবাব দিতেন তিনি-“আর আছি কেমন ? দিন তো ফুরিয়ে আসছে-_ এবার গঙ্গার দিকে পা।” ইংরাজীতে যাকে বলে “পেসিমিষ্”, গঙ্গাচরণ বাবু ছিলেন তাঁই। পেশায় তিনি ছিলেন উকীল আর ছিলেন দর্শনশাস্ত্রে এম. এ.। দর্শনশান্ত্রে তার বেঁঁ ছিল বরাবরই আর এতে তার পাণ্ডিত্যও ছিল প্রগাট। এত বেশী পড়েছিলেন তিনি যে পড়ে তার মাথার ঘিলু অবধি গিয়েছিল গুলিয়ে এমনিতে তিনি ছিলেন একজন সাধারণ মানুষ এই আমি- আপনি যেমন আবকি! কিন্তু এক এক সময়ে তার মাথায় খুন চাপত। তখন জোয়ারের সময় গঙ্গার মতো, সাধারণ গঙ্গাবাবু হয়ে উঠতেন অসাধারণ গঙ্গাবাবু। ৃঁ

এক সময় তার সখ হলে। ফটো! তোলার অনেক টাকা খরচ করে একটা দামী ক্যামেরা কিনে ফেললেন তিনি আব সেই সঙ্গে কিনলেন কয়েকটা ফটোগ্রাফির বই।

কতকগুলো। ফটো৷ তুলে আমাকে দেখালেন তিনি বললেন, _-“দেখ তো ডাক্তার, কেমন হয়েছে কটোগুলে। ?”

ফটোগুলো৷ সত্যিই ভাল হয় নি। তবু তার মন রেখে বললাম, “ভালই তো ।”

_-“আমার সঙ্গে ঠাট্টা করছ তুমি? আমি জান আমার ফটো কেমন হয়েছে তবে জেনো, একদিন আমার ফটো৷ সের! পত্রিকায় ছাপা হবে আর তাতে পাবে প্রথম পুরস্কার |”

হলোও তাই। কিস্তু তারপর ফটো তোল। একেবারে ছেড়ে আ.-খ্য-্”১

দিলেন তিনি। ক্যামেরাটাও বিক্রি করে দ্রিলেন, সেই সঙ্গে নিবিচারে।

তারপরে তার মাথায় চাপল আর এক খেয়াল। একদিন শুনলাম গঙ্গাচরণ বাবু কোথায় উধাও হয়ে গেছেন। অনেক খোঁজ করেও কোন সন্ধান পাওয়। গেলন। তার। মাস দেড়েক পরে হঠাৎ ফিরে এলেন তিনি বললেন, “দেখ, বেড়াবার সখ হয়েছিল, তাই বুরে এলাম দিল্লী, আগ্রা থেকে মাদ্রাজ ত্রিচিনোপল্লী অবধি কিছু আর বাকি নেই।”

_-“কেমন লাগল ?”- জিজ্ঞেম করলাম আমি।

“এখানেও যেমন আকাশ, মাটি, জল,” গঙ্গাচরণ বাবু জবাব দিলেন,_“ওখানেও তেমনি আকাশ জমি আর জল, কোন তফাৎ নই”

মুখ বেঁকিয়ে ঠোঁট কুঁচকে বলে চললেন তিনি__“বেড়ানট! শুধু একটা নেশা বাক্ছে, বাজে__একেবারে বাঁজে__যাচ্ছেতাই ।”

হঠাৎ শুনলাম একদিন, গঙ্গাচরণ বাবু তার প্র্যাকটিস্‌ ছেড়ে দ্য়েছেন। মনে পড়ল অনেকদিন আগে তিনি বলেছিলেন -“এই গঙ্গাচরণ চ্যাটাজি একদিন জন্মেছিল সে অতি গরীবের ঘরে আর একদিন সে ঠিক হবে শহরের সের! উকীলদের মধ্যে একজন আর .সইদিন সে ছেড়ে দেবে তার সব প্র্যাকটিস্‌।”

গিয়ে বললাম, “হঠাৎ একি করলেন, গজাবাবু ?”

_ “ঠিকই করেছি লোক টাকা উপায় করে নিজের ন্ুুখের জন্য | দেখলাম টাকায় কোন সুখ নেই। টাকার বোঝা বইতে মোটেই মার ভাল লাগে না আমার। তবে টাকার আমার কি দরকার ?”

_-“আপনার দরকার না থাক, আপনার ছেলের কথা তে। ভাবতে হবে।”

_-“ভাববার আর কি আছে? মদি 50002516601 ০519001806+

বাঁচতে পারে তে ঝাচবে, নইলে মরবে_কারণ এই হলে! জগতের নিয়ম”

__কিন্তু আপনারও তো একট দায়িত্ব আছে ।”

_-“কারুর জন্য কারুর কোন দায়ি নেই ছুনিয়ায়। সব শুধু এক ফাকা বুলি ।”

মুখ বেঁকিয়ে ঠোট কুচকে গঙ্গীচরণ বাবু বললেন__“বাজে, বাজে-_ একেবারে বাজে-যাচ্ছেতাই 1”

আমি ছিলাম গঙ্গাচরণ বাবুর বাড়ীর পারিবারিক চিকিৎসক একদিন টেলিফোনে এক জরুরী কল পেয়ে গেলাম ওর বাড়ীতে দেখি, গলাচরণ বাবু এক ইজিচেয়ারে বসে আলবোল৷ টানছেন পাশের টেবিলে পড়ে রয়েছে কতকগুলে। মোট মোটা বই।

আমি যেতেই ধড়মর করে উঠে বসলেন তিনি বললেন-_ _ “এসো ডাক্তার, এতক্ষণ তোমারই অপেক্ষা করছিলাম আমি ।”

_“কার অস্থখ করেছে বাড়ীতে ?” জিজ্ঞেস করলাম আমি

_-অন্ুখ আমার- শরীবের নয় মনের প্রায়ই মনে হয় জীবনট। শেষ করে ফেলি। কিছুই আর ভাল লাগে না আজকাল ছুনিয়াট। নেহাৎ একঘেয়ে আর পুরোনে। হয়ে গেছে ।”

“এ এক ধরণের মনের অন্থুখ” --অমি জবাব দ্রিই।

_-“হ ডিপ্রেসিভ সাইকোসিস্‌। পড়ে দেখলাম এর চিকিৎসার আছে মাত্র ছুটো উপায়--এক লিউকোটমি বা অস্ত্রোপচার করে মস্তিক্ষের খানিকটা বাদ দেওয়া; তা এসব অপারেশন বিলেত- আমেরিক। ছড়া আর কোথাও হয় না। আর দ্বিতীয় উপায়, শক্‌-থেরাপী ।”

এই বলে টেবিলের উপর রাখা বইগুলো আমায় দেখালেন গঙ্গাবাবু। দেখলাম সেগুলো ফ্রয়েড, জুঙ্গ আর এডলারের লেখা হুরহ মনস্তত্বের কেতাব।

গঙ্গীচরণ বাবুকে নিয়ে গেলাম এক মানমিক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে। গঙ্গাচরণ বাবু যা বলেছিলেন, সেই ব্যবস্থাই হলো শক্‌- থেরাপীর নির্দেশ দিলেন মনঃসমীক্ষক মশাই

শক্‌-থেরাপীতে* ইলেকট্রিক কারেন্ট চালিয়ে দেওয়। হয় মাথায় ফলে জ্ঞান লুপ্ত হয়ে যায়। তারপর অঙ্গে অঙ্গে আর পেশীতে পেশীতে সুরু হয় আক্ষেপ। মনে হয় প্রাণটাই বুঝি বেরিয়ে যাবে যন্ত্রণায় আর আক্ষেপনে। কোন কোন সময়ে প্রাণ সত্যিই বেরিয়ে যায়, এই আস্মরিক চিকিৎসাতে সেই যন্ত্রণার চোটে মনের যত অসংযত খামখেয়াল সব পালায় মন ছেড়ে বাঁপ বাপ বলে। এই চিকিৎসা-প্রণালী অনেকটা! চাবুক মেরে বিনা তালিম দেওয়1 ঘোড়াকে বশে আনার মতো কিন্তু গঙ্গাচরণ বাবুর মন ছিল এটেল মাটির মত শক্ত-_তার উপর দর্শনশাস্ত্রের রস পান করে, তা হয়ে উঠেছিল তেএটেল। কোন চাবুকেরই সাধ্য ছিল না৷ তাকে বশে আনা স্থতরাং শক্‌-থেরাঁপীর পর যখন আমি গঙ্গাবাবুকে জিজ্ঞেস করলাম-_ “কেমন বোধ করছেন £' মুখ বেঁকিয়ে ঠোট কুঁচকে তিনি জবাব দিলেন--“কৈ আর ভাল আছি বল? কিছুতেই কিছু হয় ন!। বাজে, বাজে__সব বাজে-_যাচ্ছেতাই।”

গঙ্গাচরণ বাবুর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলাম তাকে খুলে বললাম মব কথা উপদেশ দিলাম, গঙ্জীচরণ বাবুকে সুখের চেয়ে শাস্তিতে রাখ। দরকার, যাতে তার মনে কোনরকম চাঞ্চল্য না আস্তে পারে। আর বললাম, তার গতিবিধির উপর সব সময়ে নজর রাখতে, যাতে কোন রকম কিছু না করে বসেন তিনি। রোগে আত্মহত্যা প্রবণতা প্রায়ই দেখা যায়।

এর পর বহুদিন গঙ্গাচরণ বাবুর সঙ্গে আমার দেখা হয় নি। তবে তার খবর পেতাম প্রায়ই লোক মুখে শুনলাম তার স্ত্রী নাকি শকৃ-খেরাপীর সব ভিপ্রেসিভ সাইকোসিসের ওোগী নিরাময় হয় না। যে কোন চ৪5৮186-এর বই দ্রষ্টব্য

কোথা থেকে এক দাড়িওয়াল। গেরুয়াধারীকে আনিয়াছেন বাড়ীতে আর সেই সাধুবাবার কাছে গঙ্গাচরণ বাবু নাকি সন্ত্রীক দীক্ষা নিয়েছেন। এখন নাকি সজোরে চলছে তাদের পুজা পাঠ আর ধর্মকর্ম রোজ নাকি তাদের বাড়ীতে চণ্ডীপাঠ হয় আর শ্রীমদ- ভাগবত গীতার আলোচনা চলে

শুনে মনটা সত্যিই খুশীতে ভরে গেল যাক, গঙ্গাচরণ বাবু, অনেকটা সামলেছেন তাহলে অনেক সময় শক্‌-থেরাপীতে যাদের চৈতন্ত হয় না, হয়ত এক সাধারণ লোকের 305£5501017-এ তাদের মনের হতে পারে আমূল পরিবর্তন

একদিন হঠাৎ রাস্তায় দেখা হয়ে গেল গঙ্গাচরণ বাবুর সঙ্গে মাথার চুল তার উসকো-খুসকো, গায়ে একটা আধময়ল। পাণগ্রাবী, তার আবার বোতামগুলো সব দেওয়া নেই চোখের দৃষ্টি উদভ্রানস্ত।

জিজ্ঞেস করলাম-__“কেমন আছেন গঙ্গাবাবু ?”

_-“আমি বেঁচে আছি ?”-_গঙ্গাবাবু শুধালেন আমায়।

_-“কি বলছেন আপনি? আপনাকে যে জ্বলজ্যান্ত দেখছি চোখে।”

“একটা মরীচিকাও লোকে চোখে দেখে |”

“আর আপনার কথাও যে শুনছি কানে ।”

“একটা ফাক। প্রতিধধবনিও লোকে কানে শোনে |”

কি তর্ক করব আর এই দার্শনিক পণ্ডিতের সঙ্গে? আমি সক্রেটিসও নই, প্রটোও নই, একজন সামান্য ডাক্তার মাত্র সুতরাং বিন। বাক্যব্যয়ে মেনে নিলাম তাঁর কথা, মাথাট! হেলিয়ে।

_-“আমি আর মানুষ নই। যে-গঙ্গাবাবুকে জানতে, সে অনেকদিন নরে গেছে যাকে সামনে দেখছ, সে তার এক হীন, জঘন্য, ঘৃণিত প্রেতাত্মা ৷:

শুনলাম নাকি এক সাধুর কাছে দীক্ষা নিয়েছেন__মন দিয়েছেন নাকি ধর্মচর্চায় ?” কথাটার মোড় ঘুরিয়ে নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম আমি তাঁকে।

_-“ভেবেছিলাম অনেক কিছু আছে এতে অনেক আশ! ছিল মনে। দেখলাম সব ভুয়ো, সব ফাকা, সব শুধু আত্মপ্রবঞ্চনা_? মুখ বেঁকিয়ে ঠোট কুঁচকে বলে চললেন তিনি,_“বাজে, বাজে সফ বাজে__যাচ্ছেতাই !”

দেখলাম যে গঙ্জাবাবু ছিলেন, সে গঙ্লাবাবুই আছেন। কোথাও কোন পরিবর্তন তার হয় নি।

এর কিছুদিন পরের কথা৷ রাত্রে শুয়েছিলাম 'আমি। কড়া- নাড়ার শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। দরজা খুলে দেখি বাইরে দাড়িয়ে আছে গঙ্গাবাবুর ছেলে মুখেচোখে তার আশঙ্কার ভাব। ভয়- ব্যাকুল কণ্ঠে দে বললে-_“এখুনি চলুন ডাকৃতার বাবু, বাবার শরীর ভাল নয়। সারারাত ধরে কি রকম যেন করছেন- বোধহয় কোন বিষ খেয়েছেন ।”

খবরটা! শুনে চমকে উঠলাম আমিং। অবশ্য এতে আশ্চর্য হবার বিশেষ কিছু ছিল না, কারণ কোন কিছুই অসম্ভব নয় গঙ্গাচরণ বাবুর পক্ষে

ব্যাগটা নিয়ে তক্ষুণি ছুটলাম আমি গঙ্গাচরণ বাবুর বাড়ী। এসে দেখি বিছানায় শুয়ে ছটফট করছেন গঙ্গাবাবু, চোখ তার রক্তবর্ণ হাত-পা হিম হয়ে এসেছে বুঝলাম কোন কড়া ঘুমের ওষুধ তিনি খেয়েছেন অত্যধিক মাত্রায়

_একি করে বসলেন আপনি গঙ্গাবাবু ?” জিজ্ঞাপা করলাম আমি--“আবার আত্মহত্যার মতলব ?”

“--যা করেছি ঠিকই করেছি আমার সব কথা শোন ডাকৃতার তাহলে দোষ দিতে পারবে না আমায় মোটে শোন, আজ বিকেলে বেড়াতে বেরিয়েছিলাম আমি। ছড়িটা ঘোরাতে ঘোরাতে পথ দিয়ে হেটে চলেছিলাম আনমনে এক জায়গায় এসে আমার চমক ভাঙল দেখি রাস্তার ধারে ছেলেরা সব 'কলরব করে খেল৷

১৩

করছে। কোন ছেলের হাত থেকে ছেড়া লাট্র, ঠিক আমার সামনে এসে ঘুরতে লাগল বন্‌ বন্‌ করে হঠাৎ আমার মনে হোল আমিও তো ঠিক খেলার লা, মতই। জানি না কোথা থেকে এসেছি. আর কে ঘুরিয়ে দিয়েছে আমায় দম দিয়ে শুধু জানি, জীবনচক্রে ঘুরে চলেছি আমি অবিরাম বন্‌ বন্‌করে। ভাবলাম এই তো! জীবন. আর এরই জন্যে বেঁচে রয়েছি আমি? বাজে, বাজে -একেবারে বাজে যাচ্ছেতাই খুনি এক ওষুধের দোকানে গিয়ে কিনলাম এক বোতল ঘুমের ওষুধ তারপর এক এক করে সব কট। ট্যাবলেট গলধঃকরণ করলাম জগতে যা দেখবার ডাকতার, মে তো সব দেখে নিয়েছি। জগতের পরেও যদি কোন জগৎ থাঁকে- সেই দেখতেই এখন চললাম 1” ্‌

_-“আর সে জগৎ যদি না থাকে ।”

_-“তাহলে অন্ততঃ এখানে আর ফিরে আসব না জগত-_” মুখ বেঁকিয়ে ঠোট কুঁচকে গঙ্গাচবণবাবু বলে চলেন,__““বাজে, বাজে, একেবারে বাজে__যাচ্ছেতাই !”

অনেক করে গঙ্গাচরণ বাবুকে বাচান গেল সজ্ঞানে না হোক, অজ্ানেও গঙ্গীলাভ গঙ্গাবাবুর হলো না ভেবে পাই না, গঙ্গাচরণ বাঁবুর পরিহাসট। কার উপর-_নিজ্ের উপর, ন1 যে জগৎ তাকে বুঝল না, তার উপর? কিন্বা হয় তে। সেই খামখেয়ালী স্থ্িকর্তীর উপর হবে, যিনি এই ছুনিয়ার আজব চিডিয়াখানাঁয় গঙ্গা»বণবাবুর মতো একটি জীবকেও পাঠিয়েছিলেন ভবের খেলা খেলতে

১৯

আত্মারাম বুধিয়ার কাহিনা

আত্মারাম ছিলেন রাজস্থানর লোক, অর্থাৎ মারোয়াড়ী। বড়ভাই বিষুরাম বুধিয়া কলকাতার বড় বাজারে ঘৈ এর ব্যবসা করতেন আর আত্মারাম করতেন তার তদারক ঘৈ-এর ব্যবস। নানে সাপের চধিকে ঘি বলে চালানো আর কি! তখন যুদ্ধের সময় বাজার একেবারে আঞ্চন। সেই আগুনের তাতে লাল হয়ে টঠতে লাগলেন বিষুুরাম আর সেই সঙ্গে মেজাজও তার উঠতে লাগল তেতে। কারণ যেখানেই টাকার আমদানী, সেখানেই হয় গগের টানাটানি আর সে টানাটানিতে মনের বাধন যায় ছি'ড়ে। একদিন বিষ্ণুরাম আত্মীরামকে ডেকে তো স্পষ্টই বললেন-__

“যথেষ্ট হয়েছে ভাই, এবার তুমি নিজের পথ দেখ। এতদিন ধরে আমার ঘাড় ভেঙে খেয়েছ তুমি, কিন্তু তাবলে আমার কারবারে তোমায় ভাগ বসাতে দিতে পারি না ।”

পরের দিন তল্লীতল্লা বেঁধে আত্মারাম কলকাতা ত্যাগ করলেন__ চলে এলেন একেবারে মোজা বন্ধে অনেক ঘোরাঘুরি করে জোগাড় করলেন তিনি একটা মিলিটারী কনট্রা্ট কাজ সামান্য, সৈম্তদের কাঁচা মাংস জোগানোর ভার। মাংস মানে অবশ্য ভেড়ায় মাংস, কিন্ত আত্মারাম তার একটা ব্যাপক অর্থ ধরলেন তিনি ভাবলেন যে, যদি ভেড়ার মাংস মাংস হয়, তবে গরুর মাংস কেন মাংস নয়? গার ঘোড়ার মাংসই বাকি দোষ করলে? তর্কশান্ত্রের দিক দিয়ে

যুক্তি যে অকাট্য তাতে কোন সন্দেহ নেই আর অর্থনীতির দিক দিয়ে তো বটেই।

আত্মারাম ছিলেন একজন জাত ব্যবসায়ী কারণ, খাস মারোয়াড়ি স্বৃতরাঁং যা ভাবা, তাই কাজ। প্রতিদিন একপাল ঘোড়া আর গরু

১২

জবাই করে তাদের মাংস পাঠান হতো! ক্যান্টনমেন্টে আর তাকে ভেড়ার মাংস বলে চালান হতো যথরীতি ঘুষ খাইয়ে। বলাবাহুল্য এতে লাভ হতে লাগল চতুবর্গ_শুধু দারুণ নয়, 'একেবারে নিদারুণ শেষে যুদ্ধ থামলে, আত্মারাম যখন তার ব্যবসাপত্র গুটিয়ে ফেললেন, তখন দেখলেন যে তার নামে বেশ মোট। অস্কই জমা আছে ব্যান্কে।

তখন আত্মারামের অভিলাষ হলে। ফিল্মের কাঁজে নামতে যারা থাকেন বন্বেতে আর যাদের হাতে থাকে কাঁচ পয়সা, তাদেরই ঘাড়ে চাপে ভূত। তাছাড়। আত্মারামের বয়ম তখন ছিল যৌবনের কোটায়, যখন মনের মধ্যে রডিন কল্পনা কাচের জারে রাখা রডিন মাছের মতোই খেল! করে বেড়ায়

অতঃপর অলম্‌ অতি বিস্তারেন। দিন ছুয়েকের মধ্যেই, আত্মারাম নিজের ভোল বদলে ফেললেন সুরেট! চপ পল ছেড়ে শুরু করলেন সার্জের স্থ্যট, বিড়ি ছেড়ে ধরলেন থি, কাসল্দ্‌ সিগারেট আর চুয়া দহি ছেড়ে ধরলেন বিলাতী ভোজ তাছাড়া মাঝে মাঝে গোপনে বিলতী বোতলের লাল জল যে চলত না এমন নয়, তকে দেশাই এর ভয়ে প্রকাশ্যে খেতে সাহন করতেন না।

ফিল্ম্‌ তৈয়ারীর কার্ধস্ত্রে কয়েকটি সুন্দরী অভিনেত্রীর সঙ্গে আত্মারামের আলাপ পরিচয় হোল। শিগগিরই আলাপ পরিণত হোল ঘনিটতায় আর ঘনিষ্টত! পরিণতি পেল তথাকথিত প্রেমে

বলাবাহুল্য এসব হোল খরচ সাপেক্ষ খামখেয়াল। পঞ্চ- মকারের সাধনায় ব্যাঙ্কের জমাঁনো টাকা হু হু করে বেরিয়ে যেতে লাগল- চৌবাচ্ছার মুখ খুলে দিলে জল যেমন হুহু করে বেরিয়ে যায় আর কি! যে ফিলম্‌ তেরী করার কাজে আত্মারাম নেমেছিলেন, তা শেষ হবার আগেই তিনি দেখলেন, শুধু যে তার হাত খালি তা নয়, খণে মাথার চুল অবধি বিক্রি

তখন সব রস শুকিয়ে গেল, রঙিন ন্বপ্প গেল ঝ, নেশার মৌতাত গেল ছুটে। আত্মারাম গেলেন অভিনেত্রী স্বলোচনার

১৩

বাড়ী। গিয়ে বললেন_-“এতদিন তোমায় তো অনেক টাকাই দিয়েছি না চাইতে- আজ সময়ে তার কিছুটা তে। ফিরিয়ে দাও ।”

ন্থলোচন। স্থলোচনে ক্টাক্ষবাণ হেনে জবাব দিলেন-_-“ছুধওয়াল। গরু পেলে সকলে তার ছুধ ছুয়ে নেয়-_কারণ এইটেই হলে! জগতের নিয়ম সে ছুধ নিজে নাপান করে যে সেই গরুকেই খাওয়াতে হবে, এমন কথা তো কুত্রাপি কখনও শুনিনি ।”

যুক্তির যাথার্ঘ্যে সত্যিই সন্দেহ করার কিছু ছিল না। আত্মারাম বুঝলেন যে এখানে বিশেষ কিছু সুবিধা হবে না। অন্য কোথাও কোন ম্ুবিধা হবে বলেও তার আর আশা রইল না। তবুও আর একবার ভাগ্যটা যাচাই করতে গেলেন নর্তকী নীলিমার কাছে। সব কথ! বললেন তাকে অকপটে রক্তিম আস্যে চুল হাস্য টেনে সুন্দরী নীলিমা তাকে জানিয়ে দিল-_“টাক1 ? টাক দিতে তো ঠিক জানি না। চিরকাল নিয়েই এসেছি-_তাই নিতেই শুধু জানি।”

মুখের মতো জবাব পেয়ে আত্মারাম সে স্থান ত্যাগ করলেন বিন বাক্যব্যয়ে তার মনে হোল মাতৃজঠর থেকে ভূমিষ্ট হয়ে তার সত্যিকারের চোখ ফোটেনি কোনদিনই

আজ যেন সে চোখ ফুটল।

এদিকে ভাগ্ডার কপর্দক-শুন্ত, ওদিকে পাওনাদারদের তাগাদ।। যথা সময়ে আদালতের ডিক্রিও জারি হোল। তখন আত্মারাম দেখলেন ফেরারী হওয়া ছাড়া আর কোন গত্যস্তর নেই। হাতে যে কট। টাক! ছিল তাই দিয়ে একখাঁন। ডাধি লটারির টিকিট কিনে আত্মারাম চড়ে বসলেন এক মরিশীসগামী জাহাজে | জাহাজের ভেক থেকে তিনি খুরে খুরে দণ্ডবৎ হয়ে নতি জানালেন সেই ভোগ্যোন্বত্ত, বিলাস চঞ্চল আলোকোজ্জল বোম্বাই নগরীকে।

মরিশাসে পৌছে আত্মারাম শুরু করলেন তার পৈত্রিক পেশা, অর্থাৎ ঘৈ-এর ব্যবসা। আবার ছু পয়লা আমদানি হতে লাগল, কারণ একাজে আত্মারাম ছিলেন সিদ্ধহস্ত। হাতে বেশ ছু পয়সা

১৪

জমলে, আত্মারাম একদিন আবার পাড়ি দিলেন বোম্বাই শহরের দিকে বন্বেতে একট। হোটেলে উঠলেন আত্মারাম। পায়ের জুতো ছিড়ে গিয়েছিল সেজন্যে তিনি দোকান থেকে একজৌড়া জুতো কিনলেন দোকানদার একটুকরো! খবরের কাগজে বেঁধে জুতোটা আত্মারামের হাতে দিল হাতে কোন কাজ ছিল না, তাই হোটেলে এসে জুতোর প্যাকেটটা খুলে খবরের কাগজের ট্রকরো'টা পড়তে লাগলেন আত্মারাম | তাতে লেখ! ছিল এই কথা যে লটারির ফাস্ট প্রাইজ আত্মারামের নামেই এসেছিল, কিন্তু তিনি তখন ছিলেন ফেরারী তাই টাকাটা ফিরিয়ে নিয়ে দেওয়া হয়েছে আর একজন তলৌককে খবরট! পড়ে আত্মারাম তক্ষুণি হার্টফেল করে মা'র গেলেন আমার কাহিনী এখানেই শেষ হলো তবে একটা কথা বল! বাকি আছে। গল্প লেখা শেষ হলে ভাবলাম এটা কি হোল-_ ট্রাজিডি না কমিডি, ন। ব্যঙ্গাতক, না নিছক রস-রচন। ? হঠাৎ মনে হোল আমাদের জীবনটাই তো। এই__-জীবনের রস যে কতখানি মিষ্টি আর তেতো, টক আর ঝাল, তা আরিষ্টটল প্ল.টে! থেকে শুরু করে এই অধম লেখক অবধি ভেবে ঠিক করতে পারেন নি। সে তত্ব নিরপনের ভার পাঠকদের হাতেই আমি ছেড়ে দিলম।

দেবতার অভিশাপ,

একেই বলে অনৃষ্ট বা ছুরাদৃষ্ট। ইন্টারমিডিয়টে ফেল করে রেলের চাকরিতে ঢটুকেছিলাম। পাঁচ বছর একঘেয়ে এ্যাসিস্টেটে স্টেশন মাস্টারের কাজ করে জীবনট! যখন নেহাৎ একঘেয়ে হয়ে উঠেছিল, তখন একদিন পেলাম বদলীর অর্ডার বিস্ত তা বলে বদলী করতে হয় কিনা এমন জায়গায় ! পার্বত্য আনাম অঞ্চলের এক অতি নগণ্য ছোট স্টেশন__ টাইম টেবিলে যার নাম খ,জতে রীতিমতো বেগ পেতে হয় সেখানেই আমাকে বহাল কর! হয়েছে স্টেশন মাস্টার করে। বদলী অবশ্য মনে মনে আমি চাইছিলাম, কিন্ত আমার আনৃষ্টে সবই “উল্টা বুঝলি রাম।” যাবার ইচ্ছে থাক আর ন! থাক, চাকরি বজায় তো রাঁখতেই হবে স্থতরাং একদিন তল্সীতল্প। বেঁধে বেরিয়ে পড়লাম। স্টেশনটি একটি ব্রাঞ্চ লাইনের উপর; দরিনাস্তে একটি আপ আর একটি ডাউন ট্রেন ওখানে থামে বলাবহুল্য, লাইনের সব ট্রেনই লেটে চলে। অসময়ই এখানকার সময় আর তাতেই এখানকার অধিবাসীরা অভ্যস্ত, বরঞ্চ ট্রেন সময়ে এলে, তারা বিব্রত হয়ে পড়ে খোড়। ঘোড়ায় যিনি চড়েছেন, তিনি জানেন, টিমে তেতালায় চল। কাকে বলে। আমাদের গাড়িও তেমনি টিমে তেতালায় চলছিল বিকেলে পৌছবার কথা,কিন্ত তার অনেক আগেই সন্ধো ঘনিয়ে এল। উচু উচু পাহাড়গুলোর মাথায় অন্ধকার নেমে আসছিল আর সে আধারে দুপাশের ধানখেত আর চা-বাগানগুলে। লেপে একাকার হয়ে গেল। দেখলাম যে গন্তব্য স্থানে পৌ'ছুতে বেশ রাত হয়ে যাবে। তারপর সেই পাব বর্জিত জায়গা, কোথায় মিলবে আহারের সংস্থান আর রাত কাটাবার আন্তান!? সুতরাং বিশেষ চিস্তিত. হয়ে পড়লাম।

১৬

কিন্তু যখন সত্যিই পৌছুলাম, দেখলাম চিন্তা আমাব নিরর্থক আমার অভ্যথনায় সকলেই সেখানে হাজির স্টেশন মাস্টার যতীন বাবু ( ধার জায়গায় আমি এসেছি), পয়েন্টস্ম্যান রামনিবাঁস, এমন কি জমাদার ভগং সিং পর্যন্ত উপস্থিত। মালপত্র নিয়ে প্রাটফর্মে নেমে পড়লাম প্লাটফর্ম মানে লাল সুড়কি দিয়ে উ'চু করা! খানিকট। জায়গ। আর তার উপর খানিক দূরে দূবে টিমটিমে তেলের আলো জ্বলছে। জমাদার ভগৎ সিং আমার মালপত্র নিজের কাধে তুলেনিলে

খানিক দূরে দেখি, এক ভদ্রলোক এক লগ্ঠন হাতে ট্রেনের কামরাগুলোতে কাকে যেন খুঁজে বেড়াচ্ছেন। মুখ বাড়িয়ে প্রত্যেক কামরার ভেতরট। তিনি দেখে নিচ্ছেন আর যে সব কামরায় আলে! নেই (যাত্রীরা বাল্ব খুলে নিয়েছে বা তার ছি'ড়ে দিয়েছে এবং রেলের কর্তৃপক্ষও সে বিষয়ে উদ্বাসীন ) নিজের হাতেব লন উচিয়ে সে সব কামরা তিনি খু'ঁজছেন। চলতে চলতে ভদ্রলোক ঠিক আমাব সামনে এসে উপস্থিত হলেন। লগনের মুদ্ু আলোতে তার মুখটা দেখে আমি চমকে উঠলাম মনে হোল একে ষেন

আমি চিনি। কোথায় যেন দেখেছি অনেকদিন আগে। অথচ ঠিক মনে কবতে পাবলাম না। ভদ্রলোককে ডেকে জিজ্ঞেস করতে

যাব, কিন্তু ততক্ষণে তিনি চলে গেছেন।

যতীন বাবুর দিকে একটা চোঁখের ইঙ্গিত কবে পয়েন্টস্ম্যান রামনিবাস বললে-_-“আজকেও পাগল। সায়েব এসেছে বেলগাডি খুজতে ।”

যতীনবাবু জবাব দিলেন-_-“তাতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে? কতদিন ঝড়বৃষ্টি মাথায় করে ওকে আমি এখানে আসতে দেখেছি-_আজ তো। আর সে সব কিছু নেই।”

_-“কিস্ত কেন_কি ব্যাপার 1”--আমি প্রশ্ন কবলুম

_-৭ওই ওর একটা খেয়াল ।”__যতীনবাবু কথাটা এড়িয়ে ঘগালেন

১৭

_-“কে উনি ?”- আমি আবার প্রশ্ন করলুম।

_-এখাঁনকার চাঁবাগানের ম্যানেজার ।”__যতীনবাবু জবাৰ দিলেন।

যতীনবাবু আমায় নিয়ে এলেন তার বাসায় অর্থাৎ রেলওয়ে কোয়াটার্সে। ছুখানা ছোট ছোট ঘর আর এক ফালি বারান্দা__ কাল থেকে এটাই হবে আমার আস্তানা আমাদের ছজনের খাবার তৈরী করাই ছিল। রাত বেশ হয়েছিল। ম্ুতরাং বেশী দেরী না করে আমরা খেয়ে নিলাম। তারপর ছুটো চৌকি পেতে আর তার উপর বিছান। বিছিয়ে আমর! নিদ্রার উদ্যোগে প্রবৃত্ত হলাম যতীনবাবু কিছুক্ষণ গল্প করলেন- রেল কর্মচারীর দৈনন্দিন জীবন- যাত্রা আর নিত্য-নৈমিত্তিক অভাব-অনটনের কথা, যা শুনলে চোখে ঘুম আসতে দেরী হয় না। শুনতে শুনতে কখন যে আমি ঘুমিয়ে পড়েছি, তা জানি না।

মাঝ রাত্তিরে ঘুম ভেডে গেল, বোধহয় গরমের জন্যই হাত- পাখাটা! নিয়ে বাইরের দাওয়ায় বেরিয়ে এলাম। কৃষ্ণপক্ষের বিবর্ণ চাদ তখন ঢলে পড়েছে একট উঁচু পাহাড়ের মাথায়। য্লান টাদের আলো! শেষবারের মতো তার রূপালী পরশ বুলিয়ে নিচ্ছে ঘুমন্ত পল্লীটার উপর |

মানুষের অবচেতন মন এক এক সময়ে অদ্ভুত কাঁজ করে। যখন শত চেষ্টাতেও মনে আসে না কোন কথা, তখন আচমকা স্মৃতির ছুয়ার খুলে যায়_মনে পড়ে যায় ভুলে যাওয়া অতীত। তেমনি হঠাৎ আমার মনে পড়ে গেল স্টেশনে দেখা সেই পাগল। সায়েবের মুখ আর সেই সাথে মনে পড়ে গেল তার সঙ্গে একদিন আমার যে পরিচয় ছিল

হা, নাম তার দেবতা রায়। গীয়ের স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করে আমি যখন কলকাতার কলেজে পড়তে আসি, তখন তার সাথে আমার পরিচয় হয়। কলেজের নামকরা ধারালে। ছেলে ছিল সে-_

১৮

স্কলারশিপ পেয়ে ম্যাট্রিক পাশ করেছিল বেশ বুদ্ধিদীপ্ত সপ্রতিভ চেহারা তার। শুধু পড়াশুনোতেই ষে সে সকলের থেকে এগিয়ে থাকত ত! নয়, খেলাধূলো, গানবাজনা, সবেতেই ছিল তার সমান আগ্রহ বুদ্ধিবৃত্তির দিক দিয়ে আমি তার কাছে নগণা ছিলাম, তাই তার সাথে আমার বন্ধুত্ব কোন কালেই জমাট বাঁধে নি। সে ষে মিশতে চাইতন] তা নয়, আমিই সন্কৌোচে রইতাম দূরে

বিশ্ববিগ্ভালয়ের স্কলারশিপ নিয়ে দেবতা রায় ইন্টারমিডিয়েট পাশ করলে আব আমি ইন্টারমিডিয়েট ফেল কবে পড়াশুনে! ছেডে দিলাম। এব পর থেকে ওব সঙ্গে আমাঁব আর দেখা হয়নি বটে, কিন্তু ওর অনেক খবরই আসত কানে ব. এ. পাশ করে সে বিলেত গেল ব্যাবিষ্টারী পড়তে আর কিছু দিনে মধ্যেই পাশ কবে সে ফিরে এল। তার বাবাও ছিলেন কলকাতার এক নামী ব্যারিষ্টার কতকট তাব সাহাযো, আর কতকটা নিজেব চেষ্টায়, অল্পদিনের মধ্যেই এমন পশার সে জমিয়ে তুলল যা? অনেকেব মনই ভবে দিত ঈর্ষায়। এর কিছুদিন পৰে শুনলাম দেবতা বায় হঠাৎ বাড়ী ছেভে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে-_কি কারণে তা জ।না গেল না। এবপৰ অনেক বছরই কেটে গেছে সেই উদীয়মান তকণ বাবিষ্টাবকে আজ এক নগণ্য চা-বাগানেব ম্যানেজাবে পবিণতি পেতে দেখা সতাই অভাবনীয় মনে কথাই জাগে যে 60০ 0৮00 15 50:810661 0782 906101) জীবনে সত্য অনেক সময়ই কল্লনাব চেয়েও আশ্চকর

পবের দিন যতীন বাবু আমায় চার্জ বুঝিয়ে বিদায় নিলেন। সন্ধ্য। বেলায় ট্রেন এলে পাগলা সায়েবকে আবার দেখা গেল লগ্ন হাতে স্টেশনে তার সঙ্গে কথ। কইবার ইচ্ছা! ছিল, কিন্তু সে সময়ে আমার কাজের চাপ সবচেয়ে বেশী। স্থুতবাং ট্রেন ছাড়! অবধি অপেক্ষা করাই সমীচিন বোধ করলাম। পাগল! সায়েবও তখন ভারি ব্যস্ত ট্রেন পরিক্রমার কাজে ট্রেন ছেড়ে দিলে আর তাকে

১৯

দেখ। গেল না। বুঝলাম? মে আর আমার সঙ্গে আলাপ করতে চায় না--স্টেশনের খোল! দিক দিয়ে বেরিয়ে চলে গেছে সে। পয়েপ্টসম্যান রামনিবাসকে জিগ্যেস করলাম। পাঁগল। সায়েব সন্বন্ধে। শুনলাম, পাগল! সায়েব এখানকার চা-বাগানের ম্যানেজারী করে আর একলাই এখানে থাকে সে চা-বাগানের মাঝখানে এক বাংলোতে। তাকে তোকে পাগল।সায়েব” বলে ডাকে এই কারণে, সে যা কিছু করে সবই খেয়ালের ঝোকে যখন তার কাজ করার খেয়াল হয় তখন খাটে সে ভূতের মতন। একটা সোলার হ্যাট পরে, রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে, চায়ের বাগানে বাগানে করে সে কাজের তদারক-_ এক নাগাড়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি আর যখন সে খেয়াল চলে যাঁয়, তখন কোথায় যে সে ডুব মীরে কয়েকদিন তার কোন পাত্বাই পাওয়া যায় না। আর এক খেযাল তার, ট্রেন এলেই লগ্ঠন হাতে স্টেশনে সে আসবেই লোকে প্রথম ওকে অদ্ভুত ভাবত, কিন্তু এখন সকলেই তাঁর প্রকৃতি জেনে গেছে, সুতরাং কেউ আর কিছু বলে না। জায়গাটা শহর আর গ্রামের মাঝামাঝি বলা যেতে পারে। স্টেশনের পাশেই একটা পুরনো গীর্জা আছে। তারই পেছনে খানিকটা জমি নিয়ে খৃষ্টানদের সমাধি স্থান_সারি সারি ক্রুশ বসানো স্টেশন থেকে যে রাস্তাটা চা-বাগানের দিকে চলে গেছে, সেইটেই এখানকার প্রধান রাস্তা-_-তার দুপাশে দোকানের সারি। ভেতরে ভেতরে গলিগুলো চলে গেছে জন-মজুরদের বস্তিতে বেশীর ভাগ ঘরই কাচা, তবে কয়েকটি পাক বাড়ীও আছে। সার! শহর ঘুরে একটা বাঙালিও নজরে পড়লো না বাঙালিদের মধ্যে তাহলে শুধু আমি আর এঁ পাগলা সায়েব। সুতরাং পাগলা সায়েবের সঙ্গে আলাপ করাটা! আমার অপরিহার্য হয়ে উঠল। একদিন ধাওয়। করলাম তার বাড়ী চা-বাগানের মাঝখানে ছবির মতো বাংলোটি। কলকোলাহল একেবারেই নেই। মনে হয় না যে এখানে কেউ বাম করে। দরজায় ধাক। দিতেই এক

১৩

নেপালী চাকর এসে দরজা খুলে দিলে- বললে, যে বাবু বাড়ী নেই। পরের দ্রিন আবার গেলাম সেখানে- সেই একই জবাব। বুঝলাম এখন চলছে তার অজ্ঞাতবাস পর্ব ।.তবু তাঁর পরের দিন রাত্রে ডাউন গাড়ী চলে গেলে হাজির হলাম আবার পাগল! সায়েবের বাংলোয়। নেপালী চাঁকরট। এবার খানিকক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেম করলে-_-“আপনার কি জরুরী কাজ আছে ওর সঙ্গে?

_-“জরুরী কাজ না থাকলে কি রোজ এমনি আমি এখানে ?”

_-আপনাকে নিয়ে যেতে পারি বাবুর কাছে, কিন্তু তার জন্য শেষে যেন আমায় দোষ দেবেন না।”

--“তার মানে ??

সে কথার জবাব ন৷ দিয়ে চাকরটা বললে-__-“আপনি কিন্তু নিজের ইচ্ছেয় যাচ্ছেন_-এতে আমার কোন দায়িত্ব নেই ।”

_-বেশ, বেশ, আগে নিয়ে চল তো”-- অধীর হয়ে আমি বললাম।

_-্দাড়ান আমি আসছি ।”

বাড়ীর ভেতর চলে গেল চাকরটা আর কয়েক মুহুর্ত পরে একট৷ লগ্ন নিয়ে সে বেরিয়ে এল আমায় পথ দেখিয়ে চলল সে একটা রাস্ত। ধরে, যে রাস্তাটা সোজ। পাহাড়ের দিকে চলে গেছে। পাহাড়ের কাছে পৌছুতেই শুরু হোল জঙ্গল। দুপাশে শাল, সেগুন, দেবদার ইত্যাদি নান! জাতীয় গাছ। তাদের শুকনো পাতায় চলাপথ গেছে ঢেকে _চলতে গেলে তা মাড়িয়ে যেতে হয়। ঘন ঝোপগ্লোতে ফুটে রয়েছে অজভ্র বন্য ফুলের রাশি-_তাদের উগ্র গন্ধ সারা বাতাসকে করে রেখেছে মাতাল

আরও খানিক যেতে, জঙ্গল ফাক হয়ে এল, একট। পাহাড়ি নদীর ধারে সেই ঘাসের গালচে ঢাক খোল! জমির উপর একদল পাহাড়ি যুগলনৃত্য করছে আর তাদের মাঝখানে দীড়িয়ে বাঁশী বাজিয়ে চলেছে আমাদের পাগল! সায়েব। এদিকে ওদিকে

২১ আ-খ্য--২

ছড়িয়ে আছে অনেক গুলো মাটির ভাড়। বলাবাহুল্য তাতে রয়েছে দেশী মদ- সম্ভবতঃ পচানো মহুয়ার রস।

থানিক্‌ পরে নাঁচ-গাঁন থেমে গেল এক ভাঁড় মদ গলায় ঢেলে অস্থির পদক্ষেপে পাগল সায়েব এলে! আমার কাছে বললে-_ --কি বন্ধু, কি মনে করে ?”

জবাব দিলাম--“এসেছি তোমার সাথে দেখা করতে ।”

_-“কিস্ত এখানে তো আনার সাথে দেখ! করার নিয়ম নেই আমার সঙ্গে দেখা করার নিয়ম হলো আমার বাংলো, যেখানে আমি চা-বাগানের ম্যানেজার দেবতা রায়, যে সোলার টুপি আর খাটো কোর্তা পরে তদারক করে বেড়ায় কুলিদের কাজ কিন্তু এখানকার এই রাজ্যে 22 0176 [00179161) 06 21] 17 50165, [20গ 11511 01821: 151701020০0 0150700.

_-তিন দিন তোমার বাংলোয় গিয়ে ফিরে এসেছি যে তাই না এখানে আসা ।”

_-“তাহলে আমার রাজ্যে তোমার অনধিকার প্রবেশ না হয় মাপ করা গেল। কিন্তু বন্ধু, এখানে অতিথি সৎকারের কোন আয়োজনই নেই। আছে শুধু ভাড়ভতি দেশী মদ, যা খেতে বোধহয় তোমার প্রবৃত্তি হবে না।”

মাথা নেড়ে জানালাম-_- “না”

_-এিখানে এসেও তাহলে সভ্যতার খোলসটা গায়ে এঁটে রাখতে চাও-_কিস্তু কি জন্য ? বলতে পার কি লাভ তোমার হয়েছে সার! জীবন নিয়মের দাসত্ব করে ?”

_-“লাভ হোক আর না হোক, অন্ততঃ ক্ষতি কিছু হয় নি। তোমার মত সব কিছু খুইয়ে জীবনটাকে নষ্ট আমি করিনি

হা হা করে হেসে উঠল দেবতা রায়। হাসি থামলে সে বললে-_ “যে জীবনে কোন কিছু হারায় নি, সে কিছু পায়ও নি। যে সব কিছু হারিয়েছে, তারই জন্য তো আছে এই সব-পেয়েছির দেশ-_আমার

এই রাজত্ব এখানে নেই কোন রেশারেশি, নেই কোন হানাহানি, নেই পরস্পরের মধ্যে তুচ্ছ ঈর্ধা আর আত্মকলহ। এক টুকরো রুটির জন্য এখানে মনুষ্যত্ব বিক্রয় করতে হয় না, না একজনের মুখের গ্রাস আর এক জনে ছিনিয়ে নেয়। এখানে আছে ওপরের খোলা আকাশ, খামখেয়ালী দমকা বাতাস আর ঘন সবুজ বন-_আধুনিক সভ্যতার মাপকাঠিতে যার কোন দামই নেই। তাই আমার মাপকাঠিতেও আধুনিক সভ্যতার কোন দাম নেই।”

_-“কিস্ত এই কি জীবনের সব ?”

_-নয় কেন? মানুষ জীবনে চায়কি ? সেচায় স্থখ। আমি এখানেই খুঁজে পেয়েছি অন্তহীন স্বখের খনি তবে আমার আর চাইবার কি আছে? যাক, এনিয়ে আলোচন! কর! বৃথা, কারণ এসব কথা তুমি বুঝবে না, যতক্ষণ সংস্কারের রঙিন চশম! রয়েছে তোমার চোখে তার চাইতে চল আমার সঙ্গে

_-“কোথায় ??

-_-“সব পেয়েছির দেশের রাজসভায়। যদি অতিথিকে রাজ সভায় না নিয়ে যাই, তবে আমি কিসের রাজা ?”

বুঝলাম আপত্তি করা বৃথা পাগলের পাল্লায় যখন পড়েছি, তখন সারা রাত তার সাথেই ঘুরতে হবে। সামনের উ-চু পাহাড়টার গ৷ বেয়ে ওপরে উঠতে লাগল পাগল৷ সায়েব। আমিও তার পিছু পিছু চললাম। যতই ওপরে উঠতে লাগলাম, ততই বিরল হয়ে আসতে লাগল গাছপালা এক অপূর্ব স্নিগ্ধ শীতল হাওয়! সারা দেহমনকে যেন জুড়িয়ে দিতে লাগল | তখন গ্রীষ্মের শেষ। নব-বর্ধার প্রথম মেঘ সবে দেখ। দিয়েছে আকাশের গায়ে। মত্বমাতঙ্গের মতো। তারা সারা আকাশে ছোটাছুটি করছিল আর টাদের সাথে খেলছিল লুকোচুরী খেল।।

পাশ্নাড়ের চূড়ায় যখন উঠলাম, চোখের সামনে এক অপূর্ব দৃশ্য উদঘটিত হয়ে উঠল সামনে, পেছনে, পাশে, যেদিকে চাই শুধু

পাহাড়ের পর পাহাড়__দিগন্তে গিয়ে মিশেছে পাহাড়ের গায়ে ঘন বন আর তার তলায় চাষ করা খেত। দূরের লোকবসতিগুলে তাসের বাড়ির মতে। দেখাচ্ছিল। টাদের আলোর মায়াপরশে সারা জগৎটাকে মনে হচ্ছিল একটা স্বপ্নের মতো, একটা ছবির মতো

“এই আমার রাজসভ।” পাগল! সায়েব বললে, “আর আমার রাজ সিংহাসন চলে! গিয়ে বসা যাক ।”

একট! প্রকাণ্ড পাথর চড়ার একদিক থেকে বাইরে ঝুকে আছে, দেখতে অনেকটা একট! জল-চৌকির মতন। তার ওপরে আমর! দুজনে গিয়ে বসলাম

পাগল। সায়েব সুধালে-“বল বন্ধু, কেমন লাগছে আমার রাজত্ব?”

_-“সত্যি ভারি সুন্দর জায়গা”--তার দিকে তাকিয়ে আমি বললাম।

_-আশ্চর্য্য নয় যে ছুনিয়ার় এমন স্ুন্দর জায়গা থাকতে পারে?”

_-“আমার তো আরও আশ্চধ্য লাগে তোমাকে ! যত তোমায় দেখছি ততই আশ্চর্য হচ্ছি আমি ।”

_£ন্থঃ আশ্চর্য লাগবারই তো কথা যে নিজের জমিয়ে তোল! প্র্যাকটিস এক কথায় ছেড়ে এখানে চলে আসতে পারে, যে জংলী পাহাড়ীদের সঙ্গে মাদন বাজিয়ে নাচে, যে স্টেশনে গাড়ি এলেই লগ্ন হাতে সেখানে হাজির হয়, সে একজন অদ্ভুত লোৌক তাতে সন্দেহ নেই।”

_ “সত্যি এসব রহস্তের কোন মীমাংসাই আমি করে উঠতে পারি নি।?

: _“আর তাই জানতে তোমার কৌতুহল আর বাগ মানছে না। তা নইলে, এত পাহাড়-জঙ্গল পেরিয়ে তুমি আমার কাছে

২৪

হাজির হতে না। হু", আজ রাতে তুমি আমার অতিথি তোমার কৌতুহল চরিতার্থ হোক তাহলে আমার অতিথি সকার ।”

_-তাহলে অলমতি বিস্তারেন। শুরু কর তোমার কাহিনী |”

পাগলা সায়েব খানিকট1 মদ গলায় ঢেলে বললে-__

_-শোন বলি, আজ অনেকদিন আগেকার কথা বসেছিলাম আমি কলকাতায় এক পার্কের নিরালা কোণে ছাড় ছাড়া মেঘে ছেয়ে গিয়েছিল সারা আকাশটা, যা আমার চোখের সামনে ধীরে ধীরে ঢাক! পড়ল অন্ধকারের কালো কার্পেটে খানিকক্ষণের মধ্যেই, আশপাশের বাড়ীগুলোতে জ্ষলে উঠল ইলেকট্রিকের দীপমাল। আর তার প্রতিফলনে ঝল্মল. করে উঠল পুকুরের স্বচ্ছ জল। শুকানো পাতা- গুলে! মড় মড় করে উঠছিল শীতের জোরালো হাওয়ায়, যাতে ভেসে আসছিল দূরের বাড়ী থেকে অর্গানের মিষ্টি সুর

পাইপট| বার করে তাতে অগ্নি সংষোগ করতে যাচ্ছি, এমন সময় চমকে উঠলাম একট] মেয়ের গলার আওয়াজে

“আমায় কিছু সাহায্য করতে পারেন মিস্টার ?” মেয়েটি বললে, আজ “সারাদিন আমি খেতে পাইনি |”

চেয়ে দেখি, আমার সামনে াড়িয়ে আছে একটি ১৮।২০ বছরের এংলো ইন্ডিয়ান মেয়ে খালি পা, পরণে আধময়লা একটা স্কা্টস্‌ মাথার রুক্ষ সোনালী চুলগুলে। কাধ অবধি পড়েছে

পকেট হাতড়ে ব্যাগট। বার করলাম বঝেড়েঝুডে দেখি, তাতে পড়ে আছে শুধু একটা পিকি | মুদ্রাটা তার হাতে দিয়ে বললাম -_-“এ ছাড়। আর কিছুই নেই আমার কাছে -_আমায় মাপ কর।”

_-একটু বসতে পারি বেঞ্চে ?”

“অনায়াসে ।”

“--আজ সারাদিন ঘুরেছি পথে পথে,” পাঁশে বসে আমার দিকে তাকিয়ে মেয়েটি বললে, “কোথাও এতটুকু সাহায্য আমি পাই নি।

আপনার কাছেই যা পেলাম এখন খুব ভাল করে জেনে গেছি এখন টাক! কি জিনিস জগতে আর কি তার দাম!”

--কেন এতর্দিন কি তা জানতে না ?”

_-“সে জানবার মতে। সময় এতদিন আমার আসে নি। আমার ৰাবা-মা! হঠাৎ মারা যাবার পরই ন। আমায় দাড়াতে হয়েছে পথে আমার বাবা-ম। ছিলেন আমার একমাত্র আত্মীয়, একমাত্র আশ্রয় আর ভরসা। ভগবানের খেয়ালে তারা কোথায় হারিয়ে গেছেন জানি না। তবু বছরে ছুবার তাদের সমাধি-স্থানে যাই মনে হয় যেন সেখানে তাদের দেখ। পাই। সেটা সত্যি না মনের ভূল-_ কে বলবে ?”

+-_কোঁথাঁয় আছ এখন ??

_-%এক ছ্রসম্পর্কের কাকার কাছে আমার কাক! কি রকম লোক জানেন? একটা শয়তান! আমায় কি সব করতে বলে জানেন? যা কোন ভদ্রলোকের মেয়ে করতে পারে না। আর রাজী ন। হলে তার সাজা কি জানেন? একটা ঘোড়ার হান্টার (চাবুক ) দিয়ে সপাসপ, মেরে চলে সে যতক্ষণ তার খুশী। এই দেখুন না হাতট-_”

চেয়ে দেখি তার হাতের উপর চার পাঁচট। কাট কাটা দাগ-_ শাদা চামড়ার উপর লাল হয়ে ফুটে রয়েছে

“কাল সারাদিন কিছু খেতে দেয়নি আমায় আজও খাবার বন্ধ তাই মরিয়া হয়ে ঠিক করলাম একট কিছু করতেই হবে আমাকে নিজের ব্যবস্থা নিজে না করলে কেউ করতে পারে না। কিন্তু মান্য বা ভাবে, ত। কি কখনও হয় ?”

লক্ষ্য করলাম মেয়েটি শীতে কাপছে বললাম-_“কাপছ যে শীতে? গরম জাম। নেই ?”

“না, কে আমায় আর দেবে বলুন গরম জাম! ??

কি মনে হলো বললাম-_“চল কিনে দি একটা ওভারকোট 1৮

ষঙ

_-“কিস্ত আপনার ব্যাগেতো৷ কোন পয়সা! নেই যে। সত্যি, কি ভূলে। আপনি !”

. _ণ্তার জন্য কোন ভাবন। নেই তোমার দোকানদারের সঙ্গে আমার চেনা আছে ।”

“আপনার দয়া কখনও ভুলব ন। মিষ্টার ।”

দোকান থেকে ওভারকোট কিনে আমর! বেরিয়ে এলাম রাস্তায়। তখন গু'ড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছিল বৃষ্টি সিক্ত জন-বিরল ফুটপাতের উপর ল্যাম্পপোষ্টের বাতিগুলো স্ঠিকরেছিল এক একট আলোর বৃত্ত। ওপরে মেঘে ঢাকা আকাশে জমাট বেঁধে ছিল নিকষ কালো অন্ধকার

কিন্তু কোন দিকেই ভুা'শ ছিলনা আমার তখন। একটা আলাদ! জগতে ছিলাম যেন আমি মে সময়ে। আমর হুজনে হেঁটে চলছিলাম পাশাপাঁশি। আমার হাতে ছিল তার হাত, আমার দৃষ্টি ছিল তার মুখের উপর।

_-গতোমায় ভারি সুন্দর মানিয়েছে কিন্তু” আমি বলি, “ওভার কোটট! সার্থক হয়েছে তোমার গায়ে চড়ে।”

_-সে আপনার দয়া

_-“আমাদের জন্যই বৃণ্ঠি রাস্তাটা ফাক। করে রেখেছে আজ। এই বৃষ্টি-ধোওয়া রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলেছি শুধু আমর! ছুজনে ; আজ এই সুন্দর সন্ধ্যায় মনে হচ্ছে যেন এক স্বপ্ন রাজ্যের পথ দিয়ে চলেছি আমর |”

_-“আর আমার কি মনে হচ্ছেজান!” মেয়েটি জবাব দিলে, “মনে হচ্ছে তুমি যেন আমার কত নিকট, কত আপনার কাল তোমায় আমি চিনতাম না) কিন্তু আজ মনে হচ্ছে এই জগতে তুমিই আমার একমাত্র আশ্রয় ৷”

হঠাঁৎ একটা গলির মুখে এসে মেয়েটি থমকে দীড়াল ।. দূরে একটা অন্ধকার ঢড়ঢড়ে বাড়ীর দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে সে বললে-_- “এ আমার কাকার বাড়ী ।”

২৭

--আজ ভেবেছিলাম,” মেয়েটি বললে, “যে কাকার কাছে আর ফিরে যাব না৷ আমি কিন্তু এখন দেখছি না ফিরলে আর উপায় নেই। বিশাল এই জগৎ আর নগণ্য আমি এখানে, কোথায় খু'জে পাৰ আমি আশ্রয়, আর কি নিয়ে দ্াড়াব আমি জীবনে ?”

_পশোন, আজ তুমি ফিরে যাও তোমার কাকার কাছে,” আমি বলি “একদিন,কোন রকমে কাটাও ওখানে তারপর কান পার্কে আমার সঙ্গে দেখা করো আশ্রয়ের জন্ত তোমায় ভাবতে হবে না, দেভার আমি নিলাম। কোথাও যদি না মেলে, আমার কাছে রয়েছে তো তোমার আশ্রয় ।”

“তোমার দয়! অসীম--00909৭ 12121--আমার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মেয়েটি ঢুকে পড়ল গলিতে আমি ধ্রাড়িয়ে রইলাম সেখানে তার দিকে চেয়ে, যতক্ষণ দেখা গেল তাকে

পরের দিন সন্ধ্যায় পার্কে ঢুকে দেখি, সে মেয়েটি বসে আছে বেঞ্িতে। আমি এসে তার পাশে বসলাম

-_-“আমি কাল সারারাত কি ভেবেছি জান? মেয়েটি বললে আমায়, “এত বড় লোক তৃমি_”

--“ভুমি কি করে তা জানলে ?”

_-“আর শহরের এতবড় নামজাদ। ব্যারিষ্টার__”

-_-“সে খবরও রাখ দেখছি তুমি |”

_-হা, আর একজন অতি সামান্য মেয়ে আমি অথচ আমার ওপরই এত দয়া কেন তোমার ?”

--+“সত্য কথা বলব, বিশ্বাস করবে ?”

--“বলো”

“তার কারণ হচ্ছে এই যে আমি তোমায় ভালবাসি আমার জীবনের সবকিছুর চেয়ে ভালবাসি আমি তোমায় বলো, জীবনে তোমায় কি আমি পাব ?”

দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে আমার বুকে মুখ গু'জল মেয়েটি

ন্ট

তারপর চাপ! অস্ফুট গলায় সে বললে-_“এখনো কি তুমি বোঝনি, আমি তোমার, শুধু তোমারি |”

. হঠাৎ দপ, করে জলে উঠল একট। ফ্ল্যাশ লাইট তারপরেই ক্যামেরা হাতে পাশের ঝোপ থেকে বেরিয়ে এল একজন বুড়ো এংলো- ইপ্ডিয়ান। গালের মাংসগুলে! তার ঝুলে পড়েছে বাদ্ধক্যে চোখের দৃষ্টি তীক্ষ-__একট! পরিপন্ক চাতুর্ষের ছাপ রয়েছে তার সার! মুখে “০95০ 006 911” মেই এলো ইগ্ডিয়ান বুড়োটা বললে, _-আমি একজন ফটোগ্রাফার আপনাদের সুন্দর 7০99৪ ট] দেখে ফটে। নেবার লোভ আমি সামলাতে পারলাম না। ম্যাগাজিনে ছাঁপা হলে একট! কপি পাঠিয়ে দেব আপনাকে ।”

--“এ ফটো আপনি ছাঁপবেন নাকি %”

“যদি আপনার এতে আপত্তি থাকে, তাহলে ন। হয় ছাঁপাব না। তবে বুঝতেই পারছেন, আমি একজন গরীব লোক কিছু মাসোয়ারা যদি আপনি দেন__”

__“ফিটো নিয়ে ছাপাতে হয় ছাপান, যা করবার হয় করুন 0076 ০8:51 এক পয়সাও আমি দেব না।”

বেঞ্চ ছেড়ে উঠে এলাম আমি পার্কের গেট দিয়ে বেরুতে যাচ্ছি, এমন সময় কোটের পেছনে পড়ল একটা টান। পেছন ফিরে দেখি, ধাড়িয়ে আছে সেই মেয়েটি

_-“কি ব্যাপার আবার__কি চাও তুমি ?£" কঠোর কে প্রশ্ন করলাম আমি।

_”আমায় মাপ করো»? মেয়েটি বললে, “এই আমার পেশা_এ লোকটাই আমার কাকা।”

একে হৃদয়হীন প্রেমের অভিনয়, তার উপর আবার এই ঢঙ। আমি আর থাকতে পারলাম না। ঠাস্‌ করে বসিয়ে দিলাম তার গালে একটা চড়। তারপর সোজ। বেরিয়ে এলাম পার্ক থেকে! পেছনে কানে এল একটা চাপা কান্নার আওয়াজ, যাকে মনে হচ্ছিল

২৯

অনেকটা চাপা হাসির মতো। ফিরে দেখার আর প্রবৃত্তি হোল ন! আমার।

পরের দিন সকালে পেলাম এক ছোট্ট চিঠি। শুধু এই কটি কথা লেখা ছিল তাতে-_

_-“হয় তো! তুমি বিশ্বাস করবে না, কিস্তু সত্যিই আমি তোমায় ভালবেসেছিলাম। মানুষ নিজেকেও এতটা ভালবাসে না, যতটা আমি ভালবেসেছিলাম তোমায়। 'কন্তু শয়তান চেপেছিল আমার কীধে, যার গতিরোধ করা ছিল আমার ছুঃসাধ্য জীবনে তোমার সঙ্গে আমার আর মিলন হতে পারে না। তোমার চোখের সে দ্বণাভর! দৃষ্টি, তোমার মুখের সে কঠিন অবজ্ঞার রেখা, এখনও ভাসছে আমার চোখের সামনে | যদি কোন দিন নিজেকে ফিরে পাই জীবনে, তাহলে তোমার সঙ্গে হয়তো! আবার দেখ। হবে আলিস্।”

চিঠিটা! পেয়ে চুপচাপ বসে রইলাম আমি খানিকক্ষণ হঠাৎ মনে হোল, যে এখনও তো আমি তেমনি ভালবাসি আালিসকে, যেমন ভালবেসেছিলাম তাকে আগে। এতটা! ভাল না বালে, এতখানি ঘ্ণা আর অবজ্ঞা তাঁকে করতে পারতাম না আমি কখনও শুধু তারই ওপর কর! চলে অভিমানঃ যাকে ভেবেছি আমার আপন; শুধু তারই ওপব রাগ কর! যায়, যাকে দিয়েছি আমার মন। আমায় ভালবেসে, আমারি জন্তে আলিম আজ হারিয়ে গেছে। হায়, জীবন দিয়েও যদি তার প্রায়শ্চিত্ত করতে পারতাম !

আমি আর স্থির থাকতে পারলাম না। তথখুনি ছুটলাম আযালিসের কাকার বাড়ী শুনলাম কাল রাতে আলিস বাড়ী ফেরে নি, আজ সকালেও তার কোন খোঁজ নেই। খবরের কাগজ তন্ন তন্ন করে খু'জলাম, কিন্তু না পেলাম কোন এংলোইগ্ডয়ান মেয়ের আত্মহত্যার কাহিনী, না৷ কারও মৃতর্দেহ আবিষ্ষারের কথ |

তারপর কয়েকদিন দিশেহারা হয়ে ঘুরে বেড়ালাম কলকাতার পথেঘাটে হোটেলে, রেষ্ুরেন্টে__কিস্ত যার জন্য এত খোঁজ তাঁর সন্ধান

৩৩

পেলাম না। বেশীদিন আর ভাল লাগল না কলকাতায়- বেরিয়ে পড়লাম দেশভ্রমণে ঘুরলাম অনেক জায়গায়- দিল্লী, বন্ধে, মাদ্রাজ, ত্রিচিনোপন্লী তারপর আবার ফিরে এলাম নিজের বাড়ীতে ফিরে এলাম, কিন্তু নিজের মনকে ফিরে পেলাম কোথায়? যাকে ভুলতে চাই তাকে ভুলতে পারলাম কৈ? কলকাত।য় আর নিজেকে ভুলিয়ে রাখতে পারলাম না_পারলাম না! সেখানে তিষ্ঠুতে। শেষে এখানে চা- বাগানের ম্যানেজারের চাকরী নিয়ে চলে এলাম। সেই থেকে এখানেই আছি তারপর অনেক বছর কেটে গেছে

এখানকার সমাধিক্ষেত্রে আছে আলিসের বাবা-মার সমাধি আালিসের বাব! ছিলেন রেলের ইঞ্জিনিয়ার এই ত্রাঞ্চলাইন পাতার কাজে তাকে এখানে পাঠান হয়েছিল 'ডাইনামাইট ফাটিয়ে টানেল তৈরী করার সময় বিক্ষোরণে তার মৃত্যু হয়। আযলিসের মা তার অনেক দিন পরে মারা যান। তার শেষ ইচ্ছা! ছিল, স্বামীর সমাধির পাশে তাকে যেন শোওয়ানো হয়। আযালিস বলেছিল বছরে দুবার সে আসে বাবা-মার সমাধি দর্শনে কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেল _-সে ছুদিন আমার জীবনে আর এল ন!।

কিন্তু আজও তার দেখ। পাবার আশ! মন থেকে যায় নি। আজও মনে হয় তার দেখ! মিলবেই আর সেদিন উজাড় করে বলব তাকে, মনে জম। আছে যত কথা স্টেশনে যখন গাড়ি আসে, পাগলের মতো! ছুটে যাই তাঁকে দেখতে কিন্তু হায়, তৃষিত আখি তৃষিতই রয়ে যায়।

_-“আঁর যদি জীবনে তাঁর দেখা না পাও?” প্রশ্ন করলাম আমি।

_-“তাহলেও জীবন আমার ব্যর্থ হবে না” সে জবাব দিলে, *002 28:01) 010 01:01:21 2105১ 10 10522] 90217050610 120 (এ জগতের খণ্ডিত বক্র রেখা, জগতে হয় পরিপুর্ণ বৃত্ত )৮%

*ভবানীপুর রবীন্দ্র শত বার্ধিক উৎসবে ছোটগল্প গ্রতিযোগিত্যয় পুরফধার প্রাঞ্চ

৩১

হলদে বিনুক

নদীর ধারটায় সার্কাসের তাবু পড়েছে। বিরাট তাবুর ভেতর দশকদের গ্যালারি সাজান হয়েছে এসেছে খাঁচায় করে বাঘ, সিংহ, ভালুক, শিম্পাঞ্জি, এসেছে কত লোহালকড়, দড়িদড়া আর কাঠের স্তপ।

সন্ধ্যেরদিকে টিকিটের লাইনটা শম্বুক গতিতে এগুচ্ছিল। প্রায় আধঘণ্টা দাঁড়িয়ে একট। টিকিট পাওয়। গেল।

ভেতরে ঢুকে দেখি, গ্যালারি প্রায় ভতি। শুধু শহরের নয়, দূরের গ্রাম থেকে, শহরের উপকণ্ঠ থেকে দর্শকরা এসে জুটেছে। যাত্রা কিংবা পালাগান হলে যে শ্রেণীর জনসমাগম হতো, গ্যালারিতেও তার কিছু বাতিক্রম নেই। তবে আসর জমিয়ে রেখেছে ছোট ছেলে-মেয়ের তারা একজোটে বসে অনর্গল কথা বলে চলেছে আর সার্কাসের জন্তদের দেখছে।

বাশী বেজে উঠল। খেলা স্বর হোল। প্রথমে জীবজস্তর খেলা হাঁতি ঘোড়া আর শিম্পাঞ্জির কসরৎ। ছড়ি হাতে একটা ক্লাউন আগ্ন্ত খেলাগুলি পরিচালনা করলে। তারপর তারের 'খেল।। পুতুলের মতো অদ্ভুত ধরনের ফ্রক পরা সবমেয়ে হাতে জাপানী ছাতা নিয়ে, তারের উপর দিয়ে স্বচ্ছন্দে হেঁটে গেল। এরপর সাইকেল, এক চাকার সাইকেল, আগুনের খেলা এবং সমস্ত কিছু পার হয়ে খন ট্রীপিজের খেল। সুরু হোল, তখন সকলে রুদ্ধ-নিঃশ্বাস হয়ে বসল।

অনেক উর্ধে দুখান। দৌলন। ছুলছে-_ঠিক দোলন! নয়, দুখান! মন্থণ উজ্জল ধাতুখণ্ড। আর তা ধরে বাছুড়ের মতো! ঝুলছে একটি লোক। লোকটার চেহার! লম্বা, ছিপছিপে, গায়ে আট সাট পৌষাক

৩২

আর গলায় ছুলছে একট! হার--যার লকেটের জায়গায় মা প্রকাণ্ড হলদে রঙের বিন্ুক আট। আছে।

সমান্তরাল বার ছুটি ছুলছে-_সামনে পেছনে সামনে যখন আসছে, তখন পরম্পর অত্যন্ত কাছাকাছি আসছে। পরমুহুর্ঠে আবার দূরে সরে যাচ্ছে, তাঁদের ব্যবধান বেড়ে যাচ্ছে। নীচে মাটির উপর টান টান করে জাল টাঙ্গান

শুরু হেল খেলা কখনও দড়ি বেয়ে তাবুর ডে ওঠা, কখনও দড়ি ছেড়ে লাফিয়ে বারটা ধর! কখনও এক হাতে বারটা ধরে ঝুলে থাক! আর কখনও বা একট! বার থেকে লাফিয়ে পড়ে আর একটা বার ধরা এই লোমহর্ধণ খেল! চলল অনেকক্ষণ ধরে, তারপর শেষ হলে। সাককাস।

কৌতৃহলের নিবৃত্তি হোল না আমার বিশেষ করে হলদে রঙের ঝিম্ুকের মালা পরা ট্রীপিজের লোকটাকে বার বার মনে পড়তে লাগল। তাই পরের দিন সকালে আবার গেলাম নদীর ধারে, যেখানে সার্কাসের তাবু খাটান হয়েছে।

সার্কাসের মেয়ে পুরুষ হরেক সাজে, হরেক কাজে, ইতি উতি ছড়িয়ে রয়েছে। তীবুর সামনেই কয়েকটি মেয়ে দীড়িয়ে, নাচের ভঙ্গিতে চলে-বেডিয়ে অনেকক্ষণ থেকে গল্প করছিল অফুরস্ত তাদের হাসি, অনর্গল তাদের গল্প আমি কাছে যেতেই হামি থেমে গেল ওদের, চোখ বড় বড় হলো। আর তারপর কয়েক মুত আমাৰ দিকে তাকিয়ে থেকে তাবুর ভেতরে অদৃশ্য হয়ে গেল। প্রমীলা! বাহিনীর আকন্মিক রণভঙ্গে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। পরমুহুর্তে তাবু থেকে বেরিয়ে এল যে মোটা আধবুড়ো লোকটি, তাঁকে চিনলাম স'র্কাসের ক্লাউন বলে।

ক্লাউন বললে-__““এখন তো৷ খেলার সময় নয় কাঁকে চাই বলুন?”

জবাব দিলাম-_““কালকে ট্রাপিজের খেল। দেখাচ্ছিল যে লোকটি তার সঙ্গে একটু দেখা করতে চাঁই।”

৩৩

ক্লাউন গল। চড়িয়ে ভাকল-_“চাকো,এস এখানে 1”

ট্রাপিজের সেই লোকটি বেরিয়ে এল। গলায় তখনও তার ঝিনুকের হার আমি বললাম _““এমন সুন্দর ট্রাপিজের খেলা শিখলেন কোথায় ?”

চাকো। বললে-_“কেরালায়__এই সাকণাসের ট্রেনিং-এ। আমরা সাঁকর্ণীসের লোক বেশীর ভাগই কেরালার। আমার বাবা জেলে, আমিও ছিলাম তাই--তবে টাঁকার জন্য সাকাসে এসে জুটেছি।

«এ খেলায় কত বিপদ আছে জানেন ন11”

_-"জানি বাবু বিপদে পড়েছিও বটে। তবে সব বিপদ থেকে বাঁচিয়েছে আমায় এই হলদে বিন্বুকট11”

-_-তাই নাকি ?”

_-“এর পেছনে একটি ছোট্ট গল্প আছে। যদি আপনার শোনার ইচ্ছা থাকে তো বলতে পারি ।”

আমি মাথাট। নাড়লাম।

--“আগেই বলেছি আমি কেরল দেশের, পেশায় জেলে সমুদ্রের নোনা! জল আমার রক্তে মিশে আছে সমুদ্রের অনেক ঝড় আমি দেখেছি, আবার চাদের আলোয় উৎফুল্ল সমুদ্রের মর্মর তানও শুনেছি! কেরলের কুইলন শহরের কাছে সমুদ্রের ধারে আমাদের বাড়ী ছিল। ছেলেবেল। থেকেই ডিঙ্গিতে বাবার সঙ্গে মাছ ধরতে যেতাম। সে মাছ বিক্রি হোত সারা সকাল, সার! দুপুর কিছু মাছ শুটকি